বগুড়ায় উপনির্বাচন
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার অভিযোগ জামায়াতের
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান (সোহেল)। বুধবার দুপুরে শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। আবিদুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও বগুড়া শহর শাখার আমির।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি-সমর্থিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া ও দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট লোকজনকে ভোটের দায়িত্ব দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো রিটার্নিং কর্মকর্তাও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ নিয়েছেন।
আবিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী অবাধ, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের আশায় উপনির্বাচনে অংশ নিলেও সরকারি দল প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী পরিবেশ কলুষিত ও ভীতিকর এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ দলীয় প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি। উল্টো বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী বলেন, ভোট গ্রহণের জন্য দলনিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানানো হলেও ভোটে কারচুপি করতে বিএনপি-সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১০ দিন আগে ১৫০টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তালিকা চাওয়া হলেও তিনি তালিকা গোপন করেছেন। শেষ মুহূর্তে তালিকা পাওয়ার পর দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট ১৬ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নীরব থাকার অভিযোগ তুলে আবিদুর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সরা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ধানের শীষের মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া বগুড়া রেলস্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের বিএনপি-সমর্থিত সিবিএ নেতাদের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল বের করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারি দলের পক্ষে চাপ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচারণায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। এটি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকারি দলের তাঁবেদার না হয়ে দলনিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমকে ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি। বগুড়ার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে অভিযোগ পাওয়ার পর ১২ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় প্রচারণার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।