গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে ওসিকে মারধরের অভিযোগ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মামলাপ্রতীকী ছবি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মালবিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জামায়াতের বায়তুল মালবিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে ঢুকে পড়েন। তাঁরা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার–সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসি সরোয়ারে আলম খানের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওসিকে দোকানটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। ওসি বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বলে জানান। তখন পলাশ আহমেদসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে ওসির শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে লাথি ও কিল–ঘুষি মারা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা থানার কক্ষে ঢুকে সরকারি বিভিন্ন রেজিস্টারপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। বাধা দিলে তাঁরা কয়েকজন কনস্টেবলকে মারধর করেন। পরে পলাশ আহমেদ থানা ঘেরাও করার হুমকি দিয়ে চলে যান।

মামলার বাদী এসআই রুহুল আমিন বলেন, পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের তিনি আটকাতে যান। তখন তিনি হামলার শিকার হন। আহত ব্যক্তিরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে পলাশ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ওই ঘটনার খবর পেয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরা থানায় যান। তাঁরা জানিয়েছেন, দলের কোনো কর্মী এই ঘটনায় জড়িত আছে কি না, তা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।