সেতুর প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে ২৭ টনের বেশি ওজনের যানবাহন পারাপার হতে পারবে না। ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা। তাঁরা অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই করে বেশি ওজনের গাড়ি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী পার্থ সারথি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য ছয়টি লেন রয়েছে। যার দুটি দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ির জন্য। টোল প্লাজায় প্রবেশ করার আগে পণ্যবাহী গাড়িগুলো ওয়ে স্কেলে যাবে। গাড়ির ওজন করার পর ২৭ টনের কম হলে সেগুলো টোল প্লাজার পাশে সবুজ জোনে যাবে। এরপর তা টোল প্রদান করে টোল প্লাজা অতিক্রম করে সেতুতে উঠবে। আর যে গাড়ির ওজন বেশি হবে, তা রেড জোনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই গাড়িগুলো টোল প্লাজার পেছনে স্টকইয়ার্ডে গিয়ে পণ্য নামিয়ে রেখে আবার ওয়ে স্কেলে আসতে পারবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের সিমেন্ট নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিয়মিত মাদারীপুর জেলা শহরের যান একজন ট্রাকচালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই চালক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ট্রাকে ৩৫ থেকে ৪০ টনের মতো বোঝাই করি। এখন পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে ট্রাকের ওজন করা হয় না। তাই নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পারাপার হচ্ছি। ওজন করার যন্ত্র চালু করা হলে আমরা নিয়ম মেনেই ট্রাক বোঝাই করব।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংযোগ সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ওজন মাপার যন্ত্র দুটি বসানোর কাজ করছে। দুই প্রান্তে দুটি ওয়ে স্কেল বসানো হবে। টোল প্লাজার সামনে তার অবকাঠামো ও দুটি স্টকইয়ার্ড নির্মাণের কাজ চলছে। ওয়ে স্কেল দুটি কোরিয়া থেকে আনা হবে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে স্কেল দুটি বসানো সম্পন্ন হবে। তারপর ওজন করে পণ্যবাহী গাড়ি সেতুতে উঠবে। তখন ২৭ টনের বেশি ওজনের গাড়ি সেতু পারাপার হতে পারবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন