সন্দ্বীপে বিএনপির ১২ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে শিবিরের মামলা, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

সন্দ্বীপে সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির নেতারাছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সন্দ্বীপে ইসলামী ছাত্রশিবিরের তিন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলে এই মামলা হয়েছে।

সন্দ্বীপ থানা সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার বেলা তিনটায় সন্তোষপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. নাঈম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় গতকাল রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আটক হওয়া আহমেদ সুমনকেও (৫৬) আসামি করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তাঁরা পাঁচজন বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসামিরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা করে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় নাবিল, নূর মিনার এবং ফুয়াদুর রহমান নামে শিবিরের তিন নেতা-কর্মী আহত হন। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে পরস্পরের ওপর দায় চাপায়।

চট্টগ্রাম ৩ আসনে (সন্দ্বীপ) জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন আজ বেলা তিনটায় গাছুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন এবং নেতা-কর্মীদের এলাকাছাড়া করার উদ্দেশে রাতের আঁধারে হামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী
প্রথম আলো

মুহাম্মদ আলা উদ্দীন বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে বলে আশা করেছিলাম, কিন্তু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। ভোট না দিলে বাড়িছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের।’ অবিলম্বে এসব রুখে দিতে প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মুহাম্মদ আলা উদ্দীন।

জামায়াতের প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের দেড় ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করেন সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির নেতারা। বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ছাত্রশিবিরের যেসব নেতা-কর্মী আহত বলে দাবি করা হয়েছে, একজন ছাড়া বাকিরা সন্তোষপুরের বাসিন্দা নন। গভীর রাতে তাঁরা সন্তোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাতের বাড়ির সামনে কেন জড়ো হয়েছিলেন, তা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

হামলার ঘটনাকে অসত্য উল্লেখ করে বিষয়টিকে ‘তর্কাতর্কি থেকে মারামারি’ বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের। এ সময় বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন ও যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।