চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী খুনের ঘটনায় বিএনপির তিনজন আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদহে জামায়াতকর্মী খুনের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা শহরে বিক্ষোভ–মিছিল। সোমবার বিকেলে শহীদ আবুল কাশেম সড়কেছবি: প্রথম আলো

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে গত শনিবার রাতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৪৫) খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জীবননগর থানার পুলিশ, ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট রবি ও সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। অভিযানে আটক অপর ব্যক্তি হলেন হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালাম।

এ তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোলায়মান জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জসিম উদ্দিন ও মো. আবদুস সালামকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আজ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মামলা দায়ের হলে প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তারসহ অপর দুজনকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হবে।

আরও পড়ুন

শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ববিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় দলের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তাঁর সহোদর ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমানকে গুরুতর অবস্থায় জীবননগর থেকে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মধ্যরাতে হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে খুনের ঘটনায় জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, জেলা ইউনিট সদস্য আবদুর রউফ, সদর উপজেলা আমির বেলাল হোসাইন ও বাংলাদেশ ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাগর আহমেদ বক্তব্য দেন। বক্তারা শনিবারের রাতের ঘটনাকে বর্বরোচিত ও পৈশাচিক উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। সমাবেশ শেষে শহীদ হাসান চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হাসাদহের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার মূল হোতা মেহেদী হাসানকে ডিবি ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট অভিযান চালিয়ে আটক করেছে। এর আগে গতকাল দুজনকে আটক করা হয়। খুনের ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কেউ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে পাশের দেশ ভারতে চলে যেতে না পারে সে জন্য বিজিবির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শনিবার রাতে হাসাদহ বাজারে জামায়াত নেতা খুনসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জামায়াতের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনাকে দুঃখজনকভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট সংঘাতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার করা অসংবেদনশীল ও অনভিপ্রেত। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক জায়গা থেকে এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।