বাড়ির সামনে খোকসার প্রয়াত মেয়রের ছেলে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম

খোকসাতে হামলায় আহত বিএনপি নেতা নাফিজ আহমেদকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবারছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাতে শহরের থানাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি। তিনি খোকসা পৌরসভার প্রয়াত মেয়র আনোয়ার আহম্মেদ তাঁতারীর ছেলে।

হামলাকারীরা নাফিজ আহমেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর চাপাতি ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ। হামলার পর তারা নাফিজের বাড়ির লোহার গেটে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে দুটি মোটরসাইকেলে করে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় নাফিজ আহমেদকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে বিএনপি নেতা নাফিজ আহমেদের ভাষ্য, গতকাল রাতে দলীয় কার্যালয়ের কাজ শেষে তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছে তিনি অপরিচিত কয়েকজন যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তিনি তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পাল্টা পরিচয় জানতে চায়। তাঁর পরিচয় জানার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা চাপাতি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

সামনে খোকসা পৌরসভার নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমি যাতে মেয়র প্রার্থী হতে না পারি, সে উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের দোসর সন্ত্রাসীরা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য এ হামলা চালিয়েছে।
নাফিজ আহমেদ

নাফিজ আহমেদের দাবি, ‘সামনে খোকসা পৌরসভার নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমি যাতে মেয়র প্রার্থী হতে না পারি, সে উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের দোসর সন্ত্রাসীরা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য এ হামলা চালিয়েছে।’

হাসপাতালে নাফিজ আহমেদের শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর একমাত্র সন্তান ইফতারিনা খান। হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম। বাবার চিৎকার শুনে বাড়ির গেটের সামনে যাই। গিয়ে দেখি, বাবার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপ। সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।’

রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাফিজ আহমেদকে হাসপাতালে আনা হয় বলে জানান খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তাঁর ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত গভীর রক্তাক্ত জখম আছে। এ ছাড়া তাঁর ডান হাতের বাহুর দুটি হাড় এবং বাঁ হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে।