জন্মের ফর থেইকা দেখতাছি ব্রিজটা এভাবেই আছে। এর ওফর দিয়া এক দিনও গাড়ি (মোটরসাইকেল) চালাইতে ফারছি না।
কামাল মিয়া, মোটরসাইকেলচালক 

স্থানীয় লোকজন বলেন, পাকশিমুল ইউনিয়নের ফতেপুর, পরমানন্দপুর, হরিপুর, বরইচারা ও ষাটবাড়িয়া—এই ৫ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা সড়ক নেই। আছে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার গ্রামীণ ডুবোপথ। শুকনা মৌসুমে পাঁচ মাস লোকজন হেঁটে বা মোটরসাইকেল দিয়ে চলাচল করে। 

বর্ষাকালে এ পথ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নৌকা দিয়ে চলাচল করে লোকজন। কারণ, এ গ্রামগুলো পড়েছে তিতাস নদ ও মেঘনা নদীর অববাহিকায়। সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে তাঁদের যাতায়াত কিছুটা সহজ হতো। এ পথ না গেলে তাঁদের পাঁচ-ছয় কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরতে হয়।

মোটরসাইকেলচালক কামাল মিয়া (২৫) বলেন, ‘জন্মের ফর থেইকা দেখতাছি ব্রিজটা এভাবেই আছে। এর ওফর দিয়া এক দিনও গাড়ি (মোটরসাইকেল) চালাইতে ফারছি না।’

পরমানন্দপুর হাজী মুকসুদ আলী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার সব রাস্তা বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যায়। তাই এখানে (সেতুর পাশে) মাটি দিলেও থাকে না। ফলে সেতু নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না।’

গ্রামের লোকজন আরও বলেন, অরুয়াইল বাজার তাঁদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। তাঁদের উপজেলা সদরে বা অরুয়াইল বাজারে যাতায়াত করতে হয় এ রাস্তা দিয়েই। অরুয়াইল বাজার ও এর আশপাশেই অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ, অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, অরুয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকশিমুল হাজী শিশু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়, ডাকঘর, ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়, পুলিশ ক্যাম্প, সরকারি বেসরকারি ব্যাংক-বিমার অফিস অবস্থিত। 

কৃষিনির্ভর এ এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য ঘাড়ে-মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে অরুয়াইল বাজারে যাতায়াত করেন। সেতু থাকলেও সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না তাঁরা।

বরইচারা গ্রামের বাসিন্দা সংবাদকর্মী এম মনসুর আলী বলেন, এখানে সেতুটি তিন দশক ধরে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ গ্রামের মানুষ অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন। সড়কের অভাবে মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি, নবজাতক ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েন লোকজন। এখানে সেতুটির প্রয়োজন ছিল, সেতু হয়েছে। কিন্তু এটি নির্মাণের পর সড়কের অভাবে এক দিনের জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় এবং উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরমানন্দপুর এলাকায় ১৯৯৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় সাত লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এ সেতু নির্মাণের পর এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও তা হয়নি। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান বলেন, সেতুটি বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এখন এটি ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না, তা দেখতে হবে। ওই এলাকায় সড়ক নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে।