গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটার দিকে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতা-কর্মী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরের মুক্তারপুর এলাকায় বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপি। সেখানে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে শহিদুল ইসলাম ওরফে শাওন নামের এক যুবদল কর্মী মারা যান।

ঘটনার পরের দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা হয়। মামলা দুটিতে ১ হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়। একটি মামলার বাদী মুন্সিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনউদ্দিন। সরকারি অস্ত্র-গুলি লুট ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে করা এই মামলায় আসামির তালিকায় ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে। মামলাটির প্রধান আসামি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতন।

এ ছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বরই মুক্তারপুরে শ্রমিক লীগের কার্যালয় ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক লীগের নেতা আবদুল মালেক। এ মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলা আসামির তালিকায় ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামি ১৫০ থেকে ২০০ জন।

মামলা দুটির আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিন শেষে আজ বুধবার কামরুজ্জামান রতনসহ শতাধিক আসামি আত্মসমর্পণ করেন। এ বিষয়ে জজকোর্টের সেরেস্তাদার সাইদুর রহমান বলেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনসহ ৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর ঢালী বলেন, উচ্চ আদালতের জামিন শেষে আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের করা মামলায় কামরুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়া বাকি আটজনের কাগজের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম–ঠিকানা মিল না থাকায় তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।