নিজের আয়ে চলার জন্য ঘর ছাড়ে বান্দরবানের তিন কিশোরী, পরে উদ্ধার
নিজের আয়ে চলার জন্য ঘর ছেড়ে চট্টগ্রামে আসে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর তিন কিশোরী। গত রোববার বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাদের খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। পরে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে তিনজনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর ঘর ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে পরিবারের কাছে তিন কিশোরী জানায়, নিজের আয়ে চলার জন্য তারা ঘর ছাড়ে। এরপর গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার আজ সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন কিশোরীকে উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার তিনটি বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীরা জানিয়েছে, বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে তারা চট্টগ্রামে গিয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরীর বয়স ১৩, ১৪ ও ১৭ বছর। তারা লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ১৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ১৭ বছর বয়সী কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর মা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাঁর মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। মেয়েরা তাঁকে জানিয়েছে, নিজেদের খরচ নিজেরা চালানোর জন্য বাসাবাড়িতে কাজ করতে চট্টগ্রামে গিয়েছিল তারা।
ওই মা বলেন, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় ঘোরাফেরার সময় এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তারা বাড়ি ছেড়ে আসার এবং বাসাবাড়িতে কাজ করার ইচ্ছার কথা ওই ব্যক্তিকে জানায়। পরে তিনি তাদের খুলশী এলাকায় তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে দুই কিশোরী কাজ পায়। কাজ পাওয়ার পর গতকাল বুধবার বিকেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী মাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। তখন পরিবার লামা থানার পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে।
নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর মা বলেন, মেয়ের চিন্তায় তিন দিন চার রাত তাঁর নির্ঘুম কেটেছে। পড়াশোনা নিয়ে মেয়েকে শাসন করেছিলেন তিনি। সেই শাসনের কারণেই মেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। বাড়ি ফিরে মেয়ে ভুল স্বীকার করেছে এবং আর কখনো এমন করবে না বলে জানিয়েছে।