ইসমাইল পারভেজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শাহপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। ৩ অক্টোবর সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন তিনি। ৮ অক্টোবর বিয়ের পর থেকে অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন তিনি। ডাক্তার দেখানোর জন্যই তাঁকে নরসিংদীতে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা আবদুস সালাম।

নৌ পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পরিবার বলছে, গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে তৃষা-শ্রাবণী নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি নরসিংদী লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছিল। ওই লঞ্চে চড়ে ইসমাইল পারভেজ ও তাঁর বাবা আবদুস সালাম নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হন। করিমপুর পার হওয়ার সময় ৯টার দিকে ওই লঞ্চ থেকে পড়ে যান ইসমাইল পারভেজ। এ সময় অন্য যাত্রীরা হৈহুল্লোড় করলেও, লঞ্চটি ঘুরে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেনি। লঞ্চ বেশ কিছুটা দূরত্বে যাওয়ার পরও দেখা যাচ্ছিল, নদীতে পড়ে যাওয়া ইসমাইল সাঁতার কাটছিলেন।

শুক্রবার বেলা ২টা থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে নরসিংদীর ফায়ার সার্ভিস ও করিমপুর নৌ ফাঁড়ির পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় টঙ্গী থেকে আসা একটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে ডুবুরি দল ফিরে যায়। পরদিন সকাল ৮টা থেকে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরাও ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে খুঁজেছেন। আজ দুপুরে উদ্ধার অভিযান চলার সময় ঘটনাস্থলের পাশেই তাঁর লাশ ভেসে উঠে।

তৃষা-শ্রাবণী লঞ্চের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি শুনেছি, ওই তরুণ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি নাকি নিজেই লঞ্চ থেকে লাফ দিয়ে নদীতে পড়েছেন। তবে ঘটনা যেহেতু একটা ঘটেই গেছে, উচিত ছিল লঞ্চটি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজত করা। কিন্তু কেন লঞ্চের সারেং আর কেরানি এই কাজ করলেন না, আমি বিষয়টি খোঁজ নেব। বিষয়টি শুনে আমিও কষ্ট পেয়েছি।’

করিমপুর নৌ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সুজন কুমার পণ্ডিত আজ দুপুরে বলেন, লঞ্চ থেকে পড়ে তরুণ নিখোঁজের ৫২ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।