রাতে স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, সকালে সড়কের পাশে মিলল লাশ
পঞ্চগড়ে সড়কের পাশ থেকে রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে পঞ্চগড় বাজার-তুলারডাঙ্গা সড়কের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত রেজাউল করিম ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ভেলাজান-বাঁশগাড়া এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। পঞ্চগড় জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে তাঁর একটি কম্পিউটার কম্পোজের দোকান রয়েছে। গতকাল রাতে স্ত্রীর সঙ্গে কথা–কাটাকাটির পর রেজাউল ঘর থেকে বের হয়ে যান বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাতটার দিকে তুলারডাঙ্গা এলাকায় সড়কের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ খবর পেয়ে রেজাউল করিমের স্ত্রী–সন্তানেরা এসে লাশ শনাক্ত করেন।
সাংবাদিকদের রেজাউল করিমের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, তাঁর স্বামী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এ ছাড়া প্রতিদিন তাঁকে ঘুমের ওষুধ খেতে হতো। ঘুমের ওষুধ বাইরে খেয়েই বাড়িতে আসতেন।
কোহিনুর বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে বাড়িতে এসে আমার স্বামী উল্টাপাল্টা কথা বলতেছিলেন। ছেলেকে বলছিলেন ভাই, আমাকে বলতেছিলেন মা-বেটি এসব। এ জন্য আমাদের দুজনের মধ্যে একটু কথা–কাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১২টার পর ফোনটা বাড়িতে রেখে বের হয়ে যান, আর আসেননি। সকালে একটা লাশ পাওয়ার খবর শুনে সেখানে গিয়ে পরনের লুঙ্গি, শার্ট আর চেহারা দেখে লাশটা আমার স্বামীর বলে চিনতে পারি। এর বাইরে আর কী ঘটেছে তা বলতে পারি না।’
পরে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে থানায় ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।