সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মোহাম্মদ শাহিন ও শাহিনুর রহমান; ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নজরুল ইসলাম ও রোকেয়া বেগম; গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ইলিয়াস ও শাহাজুদ্দিন; বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাসেল; নরসিংদী সদর উপজেলার আমির হামজা; পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জালাল গাজি। এর মধ্যে রাসেল, আমির হামজা ও নজরুল ইসলাম আরেকটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসিমুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, দণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে জালাল গাজি, রোকেয়া বেগম ও শাহিনুর রহমান পলাতক। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের সাজা কার্যকর হবে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ জুলাই সকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি সুনামগঞ্জের আমবাড়ি বাজার এলাকার নুরুল হকের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। নুরুল পেশায় একজন মাইক্রোবাসচালক। এ ঘটনায় শেরপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সেরাজুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস ভাড়ার ট্রিপ নিয়ে কুড়িগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নুরুল খুন হন বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। সেই সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে কুড়িগ্রাম থেকে শাহীন, রাসেল ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেন। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে তাঁরা চালককে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। এসআই সেরাজুল ইসলাম ২০১৮ সালে নয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নয়জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।