সড়ক ভেঙে খালে বিলীন হয়েছে। দেখার কেউ নেই। ভাঙা সড়কের খাদের ওপর সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় লোকজন। গত মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার কাউয়াদি এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

চার বছর আগেও সড়কটি ছিল ইট বিছানো, চওড়ায় ছিল আট ফুট। স্বচ্ছন্দে হাঁটা–চলা করা যেত; চলাচল করত রিকশা, অটোরিকশা, ট্রলিসহ বিভিন্ন পরিবহন। ২০২০ সালের বন্যায় পাশের খালের স্রোত আর বৃষ্টির পানিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে খালে চলে যায়। পরে আর মেরামত করা হয়নি। বিলীন হওয়ার পথে থাকা রাস্তাটি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কাউয়াদি এলাকায়।

স্থানীয়ভাবে সড়কটি আলীরটেক-কাউয়াদি সড়ক নামে পরিচিত। সড়কের দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটারের বেশি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল হওয়ার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে। সড়কের কিছু জায়গায় এখন ইটের অস্তিত্ব আছে। অনেক জায়গায় গভীর খাদ। সে খাদের ওপর বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।

ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে চরাঞ্চল কাউয়াদি এলাকার বাসিন্দা জোসনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘বাড়িতে এক বস্তা চাউল নিতেও অনেক কষ্ট করে যেতে হয়। জমির ফসল নেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠান হলে শহর থেকে মালামাল নিয়ে এ রাস্তা পার হয়ে বাড়িতে যেতে যে কী কষ্ট, সেটা আমরা ছাড়া কেউ বোঝে না।’ 

জমির ফসল নেওয়া বা কোনো অনুষ্ঠান হলে শহর থেকে মালামাল নিয়ে এ রাস্তা পার হয়ে বাড়িতে যেতে যে কী কষ্ট, সেটা আমরা ছাড়া কেউ বোঝে না।
জোসনা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, আলীরটেক বাজারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে সড়কটি কাউয়াদি এলাকার দিকে চলে গেছে। সড়কের পূর্বপাশে সরাসরি মেঘনা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া মেঘনা খাল। আলীরটেক বাজার থেকে সড়ক ধরে ১৫ মিটার সামনে এগোতেই দেখা গেল দুই ফুট চওড়া মাটির রাস্তা, সেটিতে উঁচু–নিচু গভীর খাদ। রাস্তার কোথাও কোথাও এখনো ইট বিছানোর অস্তিত্ব রয়েছে। তবে অধিকাংশ স্থানে বড় বড় খাদ। খাদের মধ্যে রয়েছে বাঁশের সাঁকো। এর মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ যাতায়াত করছেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটি ছোট হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাউয়াদি, আলীরটেক, দক্ষিণ চরমসুরা এলাকার পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ তাঁদের প্রয়োজনে প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা গুয়াগাছিয়া এবং চাঁদপুর জেলার মতলব ইউনিয়নের দুই থেকে তিন হাজার মানুষ সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করে মুন্সিগঞ্জ শহর হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করেন। সড়কটি বেহাল হওয়ার কারণে তাঁদের কয়েক বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় কৃষক, ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদের। 

ব্যবসার কাজে ওই সড়ক ধরে ঢাকায় যাচ্ছিলেন গুয়াগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা নবী হোসেন। রাস্তার প্রসঙ্গ তুলতেই নবী হোসেন বলেন, ‘গুয়াগাছিয়া থেকে গজারিয়া হয়ে সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ দিয়ে ঢাকায় যেতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। তাই ট্রলারে করে মেঘনা নদী পার হয়ে এ পথ দিয়েই ঢাকায় যাতায়াত করি। এতে সময় কম লাগে। কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় হাঁটতে হচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কার করে দিলে সবার যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।’ 

রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় এ পথ ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেন চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মন্টু দেওয়ান। তিনি জানান, দশ-বারো বছর আগে মাটির রাস্তা হয়। এর মধ্যে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপরে এ রাস্তার জন্য আর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যার ফলে রাস্তার সংস্কারকাজ করা হয়নি। এতে আস্তে আস্তে রাস্তাটি খালে বিলীন হয়ে গেছে। 

ইউপি চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তাটির পূর্ব পাশে গভীর খাল। এখানে নতুন রাস্তা করে টিকিয়ে রাখতে হলে আগে সুরক্ষাদেয়ালের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছুদিন আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য এখানে এসেছিলেন। আমরা তাঁকে রাস্তাটি দেখিয়েছি। বড় একটি প্রকল্প পেলে রাস্তার কাজ করা হবে।’ 

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সফিকুল আহসান বলেন, এ রাস্তাটি এলজিইডির মধ্যে নয়। রাস্তাটি করতে হলে জেলা পরিষদ অথবা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে করতে হবে।