শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বাবার বাড়িতে আসার জন্য বলতে ইচ্ছা করে না। তাঁদের এ দুর্ভোগের চিত্র দেখাতে ভালো লাগে না। এটা আমাদের একটা কষ্ট।
মোছা. শারমিন, নামাপাড়ার বাসিন্দা

সম্প্রতি নামাপাড়ায় সরেজমিনে গেলে কথা হয় সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। সেখানকার বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী আবদুল কাদের এই প্রতিবেদককে গলির কাছে নিয়ে গিয়ে তাঁদের নিত্যদিনের চলাচলের দুর্ভোগের দৃশ্য দেখালেন। জানালেন, সরু এ গলির কারণে ১০ বছর ধরে ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। কেউ এর সমাধান করেন না।

সে সময় মহল্লা থেকে বের হচ্ছিলেন মোছা. শারমিন নামের এক নারী। শ্বশুরবাড়ির দুই আত্মীয়কে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। আক্ষেপ করে শারমিন বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বাবার বাড়িতে আসার জন্য বলতে ইচ্ছা করে না। তাঁদের এ দুর্ভোগের চিত্র দেখাতে ভালো লাগে না। এটা আমাদের একটা কষ্ট।’

নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, ২০০৮-০৯ সালের দিকে এ এলাকায় শিল্পায়ন শুরু হয়। আগে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য কয়েকটি রাস্তা ছিল। শিল্পায়ন শুরু হওয়ার পর প্রায় সব কটি পথ পর্যায়ক্রমে বন্ধ হতে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ায় অনির্দিষ্ট রাস্তার জায়গাগুলো বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত মহল্লা থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটির দুই পাশে ইকো কটন মিলস লিমিটেড ও ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেড নামের দুটি শিল্পকারখানা জমি কিনে নেয়। তারা এই জমিতে সুউচ্চ প্রাচীর তৈরি করে। এতে চলাচলের রাস্তাটি সরু গলিতে পরিণত হয়। কারখানার কিনে নেওয়া সম্পত্তির বাইরে এ সড়কের প্রস্থ থাকে কেবল ৩ ফুট।

স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ওই মহল্লা থেকে বের হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো রাস্তা ছিল না। খোলামেলা থাকায় যেকোনো জায়গা দিয়েই বের হওয়া যেত। সেখানকার বাসিন্দাদের কথা চিন্তা না করেই শিল্পমালিকেরা নিজেদের জমিগুলোতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এতেই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, দুর্ভোগের বিষয়ে লিখিতভাবে শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। পৌরসভা থেকে সংশ্লিষ্ট কারখানার লোকজনদের নিয়ে বসা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।

ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেডের কারখানা ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সিং প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই এলাকার লোকজনের খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমরা বর্তমানে ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তার জায়গাটুকু ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে পৌরসভা থেকে আমাদের ডাকা হয়েছিল। আমরা গেলেও পার্শ্ববর্তী ইকো কটন মিলের লোকজন সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। আমাদের মতো ইকো কটন মিল জায়গা ছেড়ে দিলে এত এত মানুষের চলাচলের বড় একটি রাস্তার ব্যবস্থা হতে পারে।’

ইকো কটন মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। তবে আমি জানি রাস্তার জায়গাটুকু আমাদের প্রতিষ্ঠানের।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। সমস্যা সমাধানে যা করার, সবকিছু করবো।’