দুর্নীতি দূর করার জন্য একটাই বাক্স, সেটি হাতপাখা প্রতীকের বাক্স: রেজাউল করীম
দেশের দুর্নীতি দূর করার জন্য একটাই বাক্স, সেটি হলো হাতপাখা প্রতীকের বাক্স—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সেলিম মাহমুদের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ কথাগুলো বলেন রেজাউল করীম।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতীক হাতপাখা উল্লেখ করে দলটির এই নেতা বলেন, এটি শান্তির প্রতীক। ৫৪ বছরে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। মা যেন সন্তান না হারান, দেশের টাকা যেন বিদেশে পাচার না হয়—দুর্নীতিমুক্ত ও ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটাই বাক্স আছে, সেটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাক্স।
রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতার সময় মানুষের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা দেশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। খুন, গুম ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা যায় না।
চরমোনাই পীর বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর ভালো নেতৃত্ব ও নীতির মাধ্যমে দেশকে সোনার দেশে রূপান্তরের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের প্রসঙ্গে রেজাউল করীম বলেন, ‘তাঁরা ভোটের জন্য আমাদের কাছে আসছেন। কিন্তু তাঁরা নতুন করে কী দেবেন, তা আলোচনার প্রয়োজন নেই। কারণ, তাঁদের শাসন আমরা একাধিকবার দেখেছি।’
জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নেতা বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটও অতীতে বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতায় ছিল। তারা শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না বলে নিজেরাই পরিষ্কার করেছে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম মাহমুদ। এতে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আলোচক হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইমরান হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা মোরশেদুল আলম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নেসার উদ্দিন, রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদ উল্লাহ ভূঁইয়া এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা।