কুষ্টিয়ায় জামায়াতের এমপির স্বজনদের বিরোধ মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আফজাল হোসেনের স্বজনদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন তাঁর স্বজনেরা। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার এলংগীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আফজাল হোসেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমপি আফজাল হোসেনের দুই চাচতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও শিপলুর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে। এর জেরে উত্তেজনা শুরু হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গতকাল রাত ৮টার দিকে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলংগীপাড়ায় যান। এ সময় পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ার, শিপলুসহ তাঁদের লোকজন পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় পুলিশের গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার ব্যাপারে জানতে আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে এমপি আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে এক ব্যক্তি আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমপি সাহেব একটু মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। তাঁকে আপনার কথা বলছি। পরে কথা বলবেন।’
এমপির ভাতিজা রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তাঁর সংসদ সদস্য চাচা বাড়িতে ছিলেন না। পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এলাকায় এলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে আনোয়ার হোসেন ও শিপলুর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নেই।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এমপির স্বজনদের মধ্যে বিরোধ চলছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর চাচাতো ভাই সাদিক, আনোয়ার ও শিপলু পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় পুলিশের গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে গেছে। আমাদের ওপর কেন হামলা করল, বিষয়টি আমরাও বুঝতে পারলাম না। আইন সবার জন্য সমান। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।’