চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ পেতে জালিয়াতি, জি কে শামীমের বিচার শুরু
জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের (দ্বিতীয় পর্যায়) কাজ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের মামলায় ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দরপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম জেলা–১–এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। এতে বলা হয়, ৭৫ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের কাজ নিতে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স–জিকেবিএল (জেভি) ‘প্রতারণা ও জালিয়াতির’ আশ্রয় নিয়েছে। কাজ পেতে দরপত্রের সঙ্গে যে কাগজপত্র দেওয়া হয়, সেখানে জালিয়াতি করা হয়েছে। কোম্পানি–সংক্রান্ত তথ্যও পাল্টানো হয়েছে।
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি সংখ্যার শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। কাজ পেতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, বিগত পাঁচ বছরের বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শেষের সনদ ও অতীতের টার্নওভারের যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও বানানো কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণকাজ পায় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স–জিকেবিএল (জেভি)।
যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর–১–এ সংশ্লিষ্ট কাগজ যাচাইয়ের জন্য পাঠায় দুদক। সেখান থেকে এসব জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। তদন্ত শেষে দুদক জি কে শামীমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় । এ মামলায় ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২০২৩ সালে এ মামলায় জামিন পান তিনি।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ওই ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের সময় জি কে শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে দুই মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে।