চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশে করা মামলায় বিএনপির দুই কর্মী গ্রেপ্তার

লক্ষীপুর–৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যর নির্দেশে করা মামলায় দুই বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার। আজ সকালে রামগতি থানায়
ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে রামগতি থানায় মামলা দুটি করা হয়। এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজনই বিএনপির কর্মী।

পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এ মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদী হয়েছেন রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন। আরেকটির বাদী হয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ।

এ দুই মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন উদ্দিন, চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন, চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম প্রমুখ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্র ও গতকাল শনিবার উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজন গ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একদল নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। এ সময় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটামালিকদের কাছে চাঁদা দাবি ও ওই এলাকার একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। একই সময় চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান ও ওয়ার্ড সভাপতি মো. আশিকের নেতৃত্বে ২০–২৫ জনের একটি দল প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। তাদের বিরুদ্ধেও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘মামলা করার নির্দেশ আমি নিজেই দিয়েছি। নির্বাচনের বিজয়কে পুঁজি করে কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালালে তার দলে কোনো জায়গা নেই। অপরাধীর পরিচয় যা–ই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা যাতে সহজে জামিন না পান, সে জন্য দলীয় আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পক্ষে কেউ যেন জামিনের আবেদন না করেন, সে বিষয়েও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’

জানতে চাইলে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, ‘মামলার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় মো. মিরাজ ও রিয়াজ হোসেন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।’