হান্নান মাসউদ একক, ‘বিদ্রোহী’ থাকায় ভাগ হবে বিএনপির ভোট

আবদুল হান্নান মাসউদ ও কাজী মফিজুর রহমান (উপরে), তানভীর উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (নিচে)

নোয়াখালীর নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে এখন নোয়াখালী-৬ সংসদীয় আসন (হাতিয়া)। এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। তাঁর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে।

নেতা-কর্মী বলছেন, ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে এ আসনে বিএনপির ভোট তিন ভাগ হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাবেন এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ।

হাতিয়া আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. মাহবুবের রহমান। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুজন। এর মধ্যে একজন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন। গণ-অভ্যুত্থানের পরপর তাঁকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়। পেশায় তিনি প্রকৌশলী।

একই আসনে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে এবং ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি পদেও ছিলেন। তাঁদের দুজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের প্রার্থী হওয়া বিএনপির ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। তা ছাড়া তারেক রহমান ২৬ জানুয়ারি ভার্চ্যুয়ালি হাতিয়া জনসভায় বক্তব্য দেবেন। সেটি ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।

অবশ্য শুধু হাতিয়া নয়, নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনেও বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন কাজী মফিজুর রহমান। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা পেশায় ব্যবসায়ী। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় তাঁকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দুই আসনের এ তিন বিদ্রোহী প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ পেয়েছেন। গতকাল বুধবার তাঁদের এ প্রতীক দেওয়া হয়। হাতিয়া আসনে তানভীর উদ্দিন ফুটবল প্রতীকে, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম হরিণ প্রতীকে ও নোয়াখালী-২ আসনে কাজী মফিজুর রহমান কাপ-পিরিচ নিয়ে নির্বাচন করবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, দুই আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য দলের উচ্চপর্যায় থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। প্রত্যাহারের বিপরীতে তাঁদের বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে তাঁরা মানেননি। ফলে নোয়াখালী-৬ আসনে মাহবুবের রহমান ও নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুককে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। এ কারণে ওই দুই আসনের বিএনপির সমর্থকদের ভোটও ভাগ হচ্ছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চেয়ে গতকাল মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আফছার উদ্দিনও ফোন ধরেননি। তবে তাঁর অনুসারী দলের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি নির্বাচন করবেন। এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন প্রতীক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রচারে নামবেন। জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে রয়েছেন।

জানতে চাইলে কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেই মাঠে নেমেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ায় এখন তিনি প্রচারে নামবেন।

বহিষ্কার হওয়া বিএনপি নেতা কাজী মফিজুর রহমান ভোটের মাঠে থাকায় কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, এখানে কোনো প্রভাব পড়বে না। যাঁরা ধানের শীষ পছন্দ করেন তাঁরা ধানের শীষেই ভোট দেবেন।

নোয়াখালী-২ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব কটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। অপরদিকে নোয়াখালী-৬ আসনে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে বিএনপি এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও ২০০৮ আওয়ামী লীগ সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন।