মনে হচ্ছে, প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনেছবি: প্রথম আলো

প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

নিজের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে প্রশাসনের নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ যে আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি, সেটা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে এসে নির্বাচনে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, সেটা নিয়ে আমি শঙ্কা প্রকাশ করছি।’

এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের ঋণখেলাপের অভিযোগ আছে। তিনি বিগত সময়ে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে সেটি আর ফেরত দেননি। তিনি এসব তথ্য গোপন করেছেন, হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের তথ্যও তিনি গোপন করেছেন। এটি ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের পর্যায়ে পড়ে। নির্বাচনী আচরণবিধিমালয় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো প্রার্থী যদি হলফনামায় তথ্য গোপন করেন, তাহলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।

এসব অভিযোগের পর্যাপ্ত যুক্তি এবং পর্যাপ্ত তথ্য তুলে ধরার পরও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব আমলে নেননি বলে দাবি করেন হাসনাত। প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণের প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গিয়েছে।’ প্রশাসনের এই ‘দ্বিচারিতামূলক’ আচরণের মধ্যে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

কতিপয় রাজনৈতিক দল প্রশাসন এবং পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। আমরা দেখেছি, প্রকাশ্যে হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও এখন পর্যন্ত প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখানে প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়টি পরিষ্কার।’

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হট্টগোল

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন, এমন অভিযোগ তোলেন জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি। জাহাঙ্গীর আলম হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারী বলে জানা গেছে। শুক্রবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিএনপি প্রার্থীর লোকজনের সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর আইনজীবী বাহাসে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেখা দেয় হট্টগোল। প্রায় এক ঘণ্টা এ অবস্থা চলতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষই তাঁদের দাবির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর আইনজীবী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন। তাঁরা দাবি করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায় রয়েছে। ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে উচ্চ আদালত থেকে তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ এসেছেন তিনি। কিন্তু সেসব তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

এ সময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আইনজীবী উপস্থাপন করেন, বিএনপি প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ায় সেই প্রতিষ্ঠানে দায় রয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনে অংশগ্রহণে যেন সমস্যা না হয়, সে জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী। উচ্চ আদালত তিন মাসের জন্য সেটির স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়, তিনি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুই পক্ষকে বারবার শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টা এমন পরিস্থিতির পর রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেন। কোনো পক্ষ এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার পরামর্শ দেন তিনি।