মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফকির মজনু শাহ সেতুতে দেখা হয় মো. মেহেদী হাসান (১৬) নামের এই কিশোরের সঙ্গে। প্রতিদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে সে। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে সেতুতে মানুষের ভিড় থাকায় ওই দিন দুপুর থেকেই হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করছিল সে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে মানুষের ভিড়। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরো সেতু ফাঁকা হয়ে গেলে অনেকটা ক্লান্ত শরীরেই বাড়ি ফিরছিল সে। বেশ কিছু হাওয়াই মিঠাই অবিক্রীত থাকলেও ছিল না তার কোনো হাঁকডাক।

কথা হয় মেহেদীর সঙ্গে। গল্পে গল্পে জানা যায় তার জীবনযুদ্ধের কথা। মেহেদী জানায়, তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তারা পাঁচ ভাই। মেহেদী ৪ নম্বর। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। এরপর মা রাহেলা বেগমই লালনপালন করেন তাদের। বড় তিন ভাই বিয়ে করে নিজেদের সংসার শুরু করেন। তাঁদের আয় কম। পরিবারে টাকা দিতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়েই সংসারের হাল ধরতে এ কাজ শুরু করছে সে। মাস শেষে যা আয়, তা দিয়েই কোনো রকম চলে মা, ছোট ভাই আর তার সংসার।

মেহেদী থাকে সেতুর পূর্ব পারের একটি বাসায়। এক বন্ধুর সঙ্গে মেসে থাকে সে। প্রতিদিন হাওয়াই মিঠাই নিয়ে বেরিয়ে পড়ে উপজেলার প্রধান সড়ক ও পাড়া–মহল্লায়। দিন শেষে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে টাকা দেন মহাজন। সেই টাকা জমায় মেহেদী। এরপর প্রতি সপ্তাহে বিকাশের মাধ্যমে বাড়িতে টাকা পাঠায় সে। আর সেই টাকায় চলে সংসার।

মেহেদী বলে, টিকে থাকতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে জীবনে। বাবা মারা যাওয়ার পর টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি। বয়স যখন আট বছর, তখন থেকে সে কাজ করে। প্রতিদিন সকাল আটটার দিকে হাওয়াই মিঠাই নিয়ে বের হয়। এরপর দিনভর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এসব বিক্রি করে।

ঈদে বাড়ি যাওনি? জানতে চাইলে মেহেদী বলে, ‘আমাগোর মতো গরিব মাইনষ্যের লাইগ্যা ঈদ না। ঈদের সময় মানুষজন ঘুরতে বাইর অয়, বেচাবিক্রি বেশি হইব, হেললাইগ্যা মহাজন ছুটি দেয় নাই। ঈদের দিনও সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় মিঠাই নিয়া ঘুরছি। মা বাড়ি থেইক্যা ফোন দিছে। বাড়িত যাই নাই দেইখ্যা কান্নাকাটি করছে। কিন্তু আমি তো চাকরি ছাইড়া যাইবার পারি না। চাকরি না থাকলে খামু কী?’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন