শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

মারধরের শিকার শিক্ষক গোলাম রব্বানী। রোববার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরাহাট বাজারেছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগঞ্জে দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চতরা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়ার দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার চতরাহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক গোলাম রব্বানী উপজেলার সরলিয়া টিএম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোলাম রব্বানী ও জিয়াউর রহমান জিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাদনের টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার দুপুরে চতরাহাট সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করার সময় শিক্ষক গোলাম রব্বানীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে বাজারের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

একপর্যায়ে গোলাম রব্বানী অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আহত শিক্ষকের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলাম রব্বানীর কাছে আমি টাকা পাই। গত বছর টাকা দেওয়ার কথা বলে আমাকে ডেকে নিয়ে উল্টো জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেয়। তারা আমাকে ফাঁসাতে এ পরিকল্পনা সাজিয়েছে। আমি আজকে তার কাছে টাকা চেয়েছিলাম, মারামারি তো করিনি।’

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমূল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।