সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, ইউএনওর অপসারণ দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়ছবি: প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। এ সময় ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণও দাবি করেন তিনি।

লোহাগাড়া উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ‘নির্বাচনের পর সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে ২০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাঁদের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বিএনপির অন্তত ২৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর লোকজন এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন নাজমুল মোস্তফা আমিন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘লোহাগাড়ার ইউএনও একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও একজন দলীয় কর্মীর মতো কাজ করেছেন। ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা ছিলেন জামায়াতের কর্মী। তাঁরা জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমরা ইউএনওর অপসারণ চাই।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ফৌজুল কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সদস্য শেখ মো. মহিউদ্দিন, ছলিম উদ্দিন, শেফায়েত উল্লাহ, নুরুল কবির, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘরে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরো চট্টগ্রামের মধ্যে লোহাগাড়ায় ভোট গ্রহণের হার তুলনামূলক বেশি। তারপরও এমন নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করলে আমাদের বলার কিছুই নেই।’