গাজীপুরে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে সরে গেলেন শ্রমিকেরা
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় শ্রমিকেরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল নয়টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের অলিগলিতে চলে যান।
এদিকে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ির দিকে যাওয়ার পথে বাসন থানার সামনে সড়কে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা সড়ক বন্ধ করে দিলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।
এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানা এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে জয়দেবপুর এলাকায়ও শ্রমিকেরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কালিয়াকৈর উপজেলায় আজ শ্রমিক আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) আরিফ হোসাঈন প্রথম আলোকে বলেন, গত সোমবার থেকে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। গতকাল মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১১ প্লাটুন বিজিবি নিয়োগ করা হয়। আজ আরও এক প্লাটুন বাড়িয়ে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আট প্লাটুন এসআরবি ও পাঁচ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এসব ঘটনায় আজ ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান বলেন, দুষ্কৃতকারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
গায়েবানা জানাজায় বাধা
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক মিয়ার স্মরণে গায়েবানা জানাজা আয়োজন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা। আজ বেলা পৌনে একটার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে হামলায় আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শ্রমিক তৌফিক মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চান্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেওয়ার পর আলী নাসের খান বক্তব্য দেন। পরে তাঁরা জানাজা শুরু করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশসাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসের খান বলেন, পুলিশ তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। পোশাকশ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।