উপাচার্যের হাতে স্মারকলিপি প্রদানকারী বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জহির ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাস নিরাপদ এবং ছাত্রীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত। সেই ক্যাম্পাসে এই নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনার ফলে এটা স্পষ্টত, এই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনা ও কার্যকরভাবে মনিটরিং করা, হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও বিচরণ বন্ধ করা। তাদের দাবিগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে দৃশ্যমান না হলে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তিনি গতকালই হলের প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রীদের হলের পেছনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হলের পাশের গাছগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। সব দাবির বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান উপাচার্য।
এর আগে গতকাল রোববার রাতে আবাসিক হলে নিরাপত্তা জোরদারসহ ১৩ দফা দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন বেগম সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা। পরে হল প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ১০টার দিকে ছাত্রীরা হলে ফিরে যান।

হলগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনা, পরে ছাত্রীদের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং স্মারকলিপি প্রদান নিয়ে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা প্রাধ্যক্ষ কমিটি মিটিং করেছি। সংশ্লিষ্ট সব শাখায় নির্দেশনা দিয়েছি হলের লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর জন্য। ওই ঘটনায় তিন হলে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’