ভুক্তভোগী খামারিরা বলছেন, প্রথমে গরুর জ্বর আসে। কিছু খেতে চায় না। পরে আস্তে আস্তে শরীরে টিউমারের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাতে ঘা হয়ে যায়। গরুর সারা শরীরে গুটি গুটি ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতস্থানে পচন দেখা যায়।

বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামের খামারি আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁর ছোট খামারে পাঁচটি গরু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গরুর পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুটি গুটি হয়ে ফুলে গেছে। পায়ের ক্ষতস্থান রক্তাক্ত হয়ে মাংস পচে যাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে ইনজেকশন দিয়েছেন। অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ খাইয়েছেন। আক্রান্ত বাছুর দুটি ভালোভাবে খেতে পারছে না।

নাইম হোসেন জানান, তাঁর খামারে ১০টি গরুর মধ্যে তিনটি গরু এই রোগে আক্রান্ত। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর গরুগুলো সুস্থ রয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলো অন্য গরু থেকে আলাদা রাখছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ভাইরাসে আক্রান্ত গরুগুলোকে প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিপাইরেটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুটি ফেটে গেলে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক মাহাতাব উদ্দিন আরও বলেন, মশা ও মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে আক্রান্ত গরুগুলোর মৃত্যুর ঝুঁকি নেই বলেই চলে। মশা ও মাছি থেকে এই রোগ গরুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেটে যাওয়া গুটিতে যাতে মশা-মাছি বসতে না পারে, সে জন্য খামারে মশারি ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া যেসব খামারে এ রোগের আক্রমণ হয়নি, তাঁরাও আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মশারি ব্যবহার করতে পারেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের খামারগুলোতে গরুর চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিয়াঘাট ও ধারাবারিষা ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্ত ১০টি গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে প্রতিষেধক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পের আওতায় ১ হাজার ৩০০ সুস্থ গরুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খামারিদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। তিনি খামারিদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন