মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কলিম উল্যার মেয়ে রাহেনা বেগমের প্রথম স্বামী আবু ছিদ্দিকের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এ সংসারে সুমন ও মামুন নামের দুই ছেলে ছিল। পরে মাকসুদের সঙ্গে রাহেনার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। মাকসুদ ও রাহেনা চট্টগ্রামে বসবাস করলেও রাহেনার আগের সংসারের দুই ছেলে টুমচর ইউনিয়নের টুমচর গ্রামে নানাবাড়িতে থাকত।

রাহেনার মায়ের মৃত্যুর পর রাহেনা তাঁর দুই ছেলেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে মাকসুদের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে রাহেনার বড় ছেলে সুমন অন্যত্র কাজে যোগ দেয়। তবে মামুন চট্টগ্রামে মায়ের সঙ্গেই থাকত। ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রাহেনা তাঁর ছেলে মামুন ও স্বামীকে নিয়ে টুমচর গ্রামে বাবার বাড়িতে যান। তখন মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে মামুনকে নিয়ে মাকসুদ বাড়ি থেকে বের হন। পর তিনি কৌশলে মামুনকে নির্জন বাগানে নিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরদিন দুপুরে মামুনের মরদেহ নালায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় রাহেনা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ মাকসুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর পুলিশ মাকসুদকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌসুঁলি জসিম উদ্দিন বলেন, দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে শিশু মামুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে মাকসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন