দেশে ফিরতে কেটেছিলেন টিকিট, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুই সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু

নিহত প্রবাসী খালিদ আহমদ ও আবদুল করিম (ডানে)ছবি: সংগৃহীত

প্রায় তিন বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে বিমানের টিকিট কেটেছিলেন প্রবাসী আবদুল করিম। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে লাগেজ গুছিয়ে রওনা দিয়েছিলেন বিমানবন্দরের উদ্দেশে। গাড়িতে তাঁকে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন তাঁর প্রবাসী ছেলে ও প্রতিবেশী খালিদ আহমদ। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী নিহত হন।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সিলেটের বাসিন্দা প্রবাসী আবদুল করিম, খালিদ আহমদসহ চারজন নিহত হন। বাকি দুজনের পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় আবদুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ আলী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত আবদুল করিম ও খালিদ আহমদের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লামার তালুক গ্রামে। নিহত দুজন প্রতিবেশী। আবদুল করিমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে তাঁর সঙ্গে সৌদিতে থাকেন। অন্যদিকে খালিদ আহমদের চার ছেলে ও চার মেয়ে। তাঁর এক ছেলে প্রবাসী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। দুর্ঘটনায় আবদুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ আলীর একটি হাত ভেঙে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন আবদুল করিম। তাঁকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে গাড়িতে ওঠেন আরেক প্রবাসী খালিদ আহমদ ও মোহাম্মদ আলী। তাঁরা তায়েফ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে আল–খুরমা এলাকায় তাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এদিকে দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর পরিবারে মাতম শুরু হয়। প্রিয়জনকে বরণ করার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়জুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এলাকার দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর মর্মান্তিক। তিনি পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দিয়েছেন।

চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই গত জুলাইয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের আরেক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার একই উপজেলার আরও দুই প্রবাসী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন।