প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরকেওয়ার ইউনিয়নের ছোট মোল্লাকান্দি গ্রামের আহম্মদ হাওলাদার ও সৈয়দ খাঁর সঙ্গে মামুন হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। ওই দুই পক্ষ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরোধের জেরে গত পাঁচ বছরে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় দুই পক্ষের কয়েক শ মানুষ আহত ও গ্রামছাড়া হয়েছেন। কেউ কেউ প্রবাসে চলে গেছেন। বাবুল গাজী একসময় সৈয়দ খাঁর পক্ষের সমর্থক ছিলেন। তিনি সাইপ্রাসে ছিলেন। কয়েক দিন আগে দেশে ফেরেন। এলাকার ঝামেলা এড়াতে গ্রামের বাড়ি বিক্রি করে দেন তিনি। ওই বাড়ির আসবাব নিতে আজ গ্রামের বাড়িতে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দা, বটি, চাপাতি নিয়ে তাঁর ওপরে হামলা করেন।

বাবুলের স্ত্রী মিতু আক্তার (২৫) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী গ্রামে থাকতেন না। কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ছিল।’

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক বলেন, সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর হাত ও পায়ের কোপের ক্ষত চিহ্ন আছে। তাঁর রগ কেটেছে কি না তিনি নিশ্চিত নন। তবে কোপের আঘাত তাঁর হাড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত বাবুল গাজী জানান, ঘরের ভেতরে মালামাল সরানোর কাজ করছিলেন। তখন খাসকান্দি গ্রামের মামুন হাওলাদারের সমর্থক মাসুদ, বাঁধনসহ ৮-১০ লোক তাঁর ঘরে হামলা চালান। মাসুদ ও বাঁধন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে মামুন হাওলাদারের স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের ওপর মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে। বাবুল গাজীরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে আহত হয়েছেন।’

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন