বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

অভিভাবকেরা অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। সম্প্রতি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেছবি: প্রথম আলো

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল সোমবার রাতে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয় ৩ শিশুর এবং বাকি ৩৪ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়।

গতকাল রাতে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার সোহাগ খানের ছেলে জিহাদ (২) এবং ভোলার চরফ্যাশনের উত্তর চর আইচা গ্রামের মো. হাসানের মেয়ে হাবিবা (৭ মাস)।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, শিশু দুটি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ২ হাজার ২৮৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। গতকাল সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৫২ শিশু। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯৮ শিশু।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও শনাক্ত হয়ে আজ পর্যন্ত ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১৪৭ শিশু। বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামের রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯৫০। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৫ শিশুর।

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে এসেছে। এই জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৮৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ভোলায় ৪৫৮টি, বরিশালে ৩৬৭টি, বরগুনায় ৫৩১টি, পিরোজপুরে ৩৩৭টি ও ঝালকাঠিতে ২৫৫টি শিশু হাসপাতালে এসেছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘মার্চ থেকেই এই বিভাগে হাম মারাত্মক রূপ নেয়। তা এখনো অব্যাহত আছে। তবে টিকা কার্যক্রম চলছে। আশা করি, এর প্রভাবে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। রোগীর চাপ থাকায় চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তারপরও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই। আমরা যথাযথ চিকিৎসা–সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’