‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার হওয়া জোড়া খুনের আসামি মেহেদি হাসানছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের মামলায় ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মেহেদি হাসান। গতকাল শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলের চর ভূমিহীন বাজার এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মেহেদি হাসান জোড়া খুনের ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদ নগরে মেহেদি হাসানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওসি বলেন, মামলায় ১ নম্বর আসামি সাজ্জাদ, ২ নম্বর আসামি তাঁর স্ত্রী তামান্না ও ৩ নম্বরে ছিলেন মেহেদি হাসান। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে আগেই ১৪টি নিয়মিত মামলা ছিল। এর মধ্যে ৪টি হত্যা মামলা। বাকি মামলাগুলো মাদকসহ বিভিন্ন ঘটনায় হয়েছে। মেহেদি হাসান ছোট সাজ্জাদের ডানহাত বা অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা।

গত ৩০ মার্চ রাতে রুপালি রঙের একটি প্রাইভেট কার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডের দিকে আসছিল। গাড়িটি শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল সেটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। প্রাইভেট কারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে গাড়িতে থাকা দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহ (৩২)। তাঁরা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গাড়িতে সরোয়ারও ছিলেন, তবে তিনি বেঁচে যান।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের করা মামলায় বলা হয়েছে, দুই ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেনের বিরোধের জের ধরে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ায় জন্য সরোয়ারকে দায়ী করে এই হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনার পর ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ, তাঁর স্ত্রী তামান্না শারমিনকে হুকুমের আসামিসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ১ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতিয়ারের মা ফিরোজা বেগম। মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান। তাঁরা সবাই সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার নগরের চান্দগাঁও খাজা রোড ও ফটিকছড়ির কাঞ্চন নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলাল ও মানিক নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ছাড়া ৬ এপ্রিল গভীর রাতে নগরের সদরঘাট এলাকা থেকে মোহাম্মদ সজীব (২৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।