কলেজে ১৪টি বিভাগের বিপরীতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও প্রদর্শকের জন্য মোট ৮৯টি পদ থাকলেও ২৮টি পদই শূন্য, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে ৬টি পদের বিপরীতে ৩ জন করে শিক্ষক আছেন। সবচেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন গণিত বিভাগে। সেখানে ৬টি পদের বিপরীতে মাত্র ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। 

গণিত চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক। সপ্তাহে এক বা দুই দিন ক্লাস হয়। সেটাও মাত্র একটি বিষয়ে। অনিশ্চয়তা নিয়ে কলেজে যাই, আজ কী ক্লাস হবে? প্রায় দিনই কলেজে গিয়ে ক্লাস না করে ফেরত আসতে হয়। এ জন্য দূরের শিক্ষার্থীরা কলেজ আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। পরীক্ষার সময় আসে, তবু কোর্স শেষ হয় না। এতে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়।’ 

গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, স্নাতক-স্নাতকোত্তর মিলে বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৮। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রিতে গণিতের ক্লাস রয়েছে। এত শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র দুজন। প্রতিদিন সব বর্ষের সমস্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বড়জোর একটি কিংবা দুটি ক্লাস নেওয়া যায়। সেটাও আবার প্রতিদিন সম্ভব হয় না। এতে গণিত বিভাগের ফলাফল খারাপ হচ্ছে। কলেজে গণিত বিভাগে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী, তাঁদের জন্য ১২ জন শিক্ষক প্রয়োজন। 

কলেজের দুজন শিক্ষক জানান, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় অফিস সহায়ক (তৃতীয় শ্রেণি) পদে যতজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা অবসরে যেতে যেতে এখন সাতজনে নেমেছে। নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম না হওয়ায় মাস্টাররোলে ৬৭ জন কর্মচারী নিয়ে কাজ চলছে। 

বাংলা বিভাগের অফিস সহায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, সাত বছর আগে অফিস সহায়ক পদে মাস্টাররোলে কাজ শুরু করেন। আশায় ছিলেন, নতুন নিয়োগ হলে সেখানে তাঁদের জায়গা হবে। কিন্তু নতুন করে অফিস সহায়ক পদে কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। কলেজ থেকে যা ভাতা পান, তা দিয়ে পাঁচজনের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। 

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি একরামুল হক জানান, কলেজে অনেকে ২৫ বছর ধরে মাস্টাররোলে কাজ করছেন। আশায় আছেন, নতুন নিয়োগ হলে তাঁরা রাজস্ব খাতে যাবেন। কিন্তু নতুন করে কোনো নিয়োগ হয় না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। মাউশি থেকে তাঁদের অনেকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। 

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য নেই ক্যানটিন। ছাত্রদের জন্য কোনো কমনরুম নেই। ছাত্রীদের জন্য আছে মাত্র একটি কমনরুম। অন্যদিকে, প্রশাসনিক ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যেখানে বৃষ্টি হলেই চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। 

কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনায় অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর জন্যও কুড়িগ্রামে সব বিষয়ে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যায় না। তাঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে শূন্য পদ পূরণের জন্য আবেদন করেছেন। আর অফিস সহায়কদের বিষয়টিও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি নতুন একটি একাডেমিক ভবন করা হয়েছে। তবে এত শিক্ষার্থীর জন্য আরও শ্রেণিকক্ষ দরকার। 

কুড়িগ্রামের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জানান, ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে একটি একাডেমিক ভবন দুটি হোস্টেল করে দেওয়া হয়েছে। মূল প্রশাসনিক ভবনটির নাজুক অবস্থার কথা তাঁরা জানেন। কলেজ তাঁদের কাছে ওই ভবন নির্মাণের চাহিদা দিলে তাঁরা সেটিও মেরামত করে দেবেন।