‘স্টেডিয়ামে জিয়াউর রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করছিলাম। খালেদা জিয়া যখন চট্টগ্রামে আসছিল, তখন তাঁকেও ফুল দিয়ে বরণ করছি। আজ তারেক রহমানকেও ফুল দিয়ে বরণ করে নেব। তাই মঞ্চের সামনে জায়গা পেতে সকাল সকাল চলে আসছি।’
আজ রোববার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশে ভিড় ঠেলে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় কথাগুলো বলছিলেন আবদুল হালিম। তাঁর বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই। এসেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা থেকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
আবদুল হালিম বলেন, সমাবেশের যাওয়ার জন্য ঘর থেকে ভোরে রওনা দেন তিনি। অনেক মানুষের ভিড় ঠেলে মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছাতে হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন তিনি।
২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে এক সভায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই হিসাবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ডের আশপাশে নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা গেছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসছেন তাঁরা। শুধু নগর থেকে নয়, আশপাশের উপজেলা ও পার্বত্য জেলা থেকেও মিছিল নিয়ে এসেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁদের হাতে নির্বাচনী প্রার্থীদের ব্যানারও দেখা গেছে। কেউ কেউ ঢাকঢোল বাজিয়ে প্রবেশ করছেন সমাবেশে।
পার্বত্য বান্দরবান জেলা থেকে আসা যুবদলের কর্মী মাইকেল চাকমা বলেন, ‘গতকাল রাতেই চট্টগ্রাম এসেছি। নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের আগমন চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করবে। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা আশা করছি।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের টাইগারপাস এলাকা থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠের প্রবেশপথ পর্যন্ত পুরো সড়কে নেতা-কর্মীদের ভিড়। সেখানে জড়ো হয়ে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নানা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন তাঁরা। কারও কারও হাতে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষও দেখা গেছে।
আকবর শাহ থানা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মনসুর আহমেদ বলেন, তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রামে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর প্রমাণ আজকের জনসমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ঢল।
এদিকে মূল সমাবেশস্থলে জায়গা না পেয়ে অনেকে সমাবেশের বাইরে ইউসুফ চৌধুরী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। সড়কটি দ্বিতল হওয়ায় সেখান থেকে সমাবেশের মূল মঞ্চ দেখার সুযোগ রয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০-৬০ জন মানুষ দেখা যায় বেলা ১১টার দিকে।
ভোরে ফজরের নামাজের পরপর সমাবেশস্থলে এসেছেন নুরুল হক। নগরের মাদারবাড়ী এলাকা থেকে এসেছেন তিনি। গণপরিবহন না পেয়ে হেঁটেই এসেছেন তিন-চার কিলোমিটার সড়ক। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই দশক পর এমন জনসভা বিএনপি নেতা-কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করবে।
আজ তারেক রহমান চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি।
এর একটি সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।