সরেজমিনে কয়েকটি লটকনের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা পাকা লটকন। হলুদ হয়ে আছে একেকটা গাছ। অনেক গাছে গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত এমনভাবে ফল ধরে যে ডালও দেখা যায় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, নরসিংদীতে এবার লটকনের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে কৃষকেরা দাম পেয়েছেন অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি। এ বছর নরসিংদীতে ১ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে লটকন আবাদ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ মেট্রিক টন; অর্থাৎ মোট আবাদ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন। এসব লটকনের বাজারমূল্য ৩১২ কোটি টাকার বেশি। এ থেকে চাষিরা লাভবান হবেন ১৮০ কোটি টাকার মতো। বাজারে চাহিদা থাকায় বেশির ভাগ কৃষকই এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করছেন। বিদেশের বাজারের কদর বাড়ছে। তবে এ বছর ইউরোপের দেশগুলোতে এখনো রপ্তানি শুরু না হলেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে লটকন রপ্তানি হয়েছে।

সম্প্রতি লটকনের কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অন্তত পাঁচ স্থানে ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে লটকনের বেচাকেনা। সবচেয়ে বড় হাট বসে তিন জায়গায়—মহাসড়কের মরজাল, বারৈচা ও চৈতন্যা এলাকায়। ভোর থেকেই ভ্যানে করে এসব হাটে নিজেদের বাগানে আবাদ করা লটকন নিয়ে আসেন চাষিরা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা দরদাম করে কিনে নেন এসব লটকন। এ বছর প্রকার ও আকারভেদে প্রতি মণ লটকন পাইকারি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি কেজির দাম পড়ে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা।

বিক্রি হওয়ার পর বেতের ঝুড়িতে ১০ বা ২০ কেজি করে লটকন ভরে পর্যাপ্ত পানি ছিটানো হয়। পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য ছোট-বড় পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। এভাবেই এসব লটকন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও দেশের বাইরে। শুধু মরজাল হাটেই প্রতিদিন বিক্রি হয় এক কোটি টাকার বেশি লটকন। আর সব হাট মিলিয়ে প্রতিদিন বিক্রি হয় তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার লটকন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, লটকনে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও আয়রন আছে; যা আর্থ্রাইটিস, পাকস্থলীর আলসারসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা সমাধানে কাজে দেয়। রুচি বাড়াতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতেও ফলটি উপকারী। লটকনগাছের পাতা গুঁড়া করে খেলে ডায়রিয়া এবং ডাল ও বাকল চর্মরোগের উপশম করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন