জোয়ারের টানে সৈকতে ভেসে এল নিখোঁজ কিশোরের লাশ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি সৈকতসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত একটার দিকে গঙ্গামতি সৈকতেই তাঁর লাশটি ভেসে আসে।
আজ শনিবার সকাল আটটায় উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব গঙ্গামতি গ্রামে জানাজা শেষে নানাবাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। ওই কিশোরের নাম নাবিল আহম্মেদ (১৬)। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় নাবিল নিখোঁজ হয়। নাবিল কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা এলাকার মৃত বজলুর রহমানের দ্বিতীয় সন্তান। নাবিল মায়ের সঙ্গে ঢাকার কমলাপুর এলাকায় বসবাস করত। সে কমলাপুর রেলওয়ে হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ঈদুল আজহা উদ্যাপন করার জন্য তাঁরা কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা এলাকার বাড়িতে এসেছিল।
নাবিলের মা জয়নব বেগম বলেন, তাঁরা কলাপাড়া পৌর শহরের বাসায় ঈদ করেছেন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা চর গঙ্গামতি এলাকায় তাঁর বাবার বাড়ি আবদুল গনি গাজীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর সবাই মিলে গঙ্গামতি সৈকত দেখতে যান। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে নাবিলও গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সে স্রোতের টানে ডুবে যায়। দিনভর স্থানীয় জেলে, পর্যটন পুলিশের একটি দল ও পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা বহু চেষ্টা করেও নাবিলকে উদ্ধার করতে পারেননি।
পর্যটন পুলিশ কুয়াকাটা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জেলেদের সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালিয়েছি। এতে আমরা সফল হইনি। পটুয়াখালী থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলকেও উদ্ধারকাজের জন্য ডেকে আনা হয়েছিল। ডুবুরি দলটিও বহু চেষ্টা করেছে। সাগর উত্তাল থাকায় তাঁদের চেষ্টাও বিফল হয়েছে।’
আবুল কালাম জানান, গঙ্গামতি সৈকতের যে পয়েন্ট থেকে নাবিল গোসলে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল, জোয়ারে সে পয়েন্টেই তাঁর লাশটি ভেসে আসে। স্থানীয় লোকজন প্রথম তা দেখতে পায়। এরপর পর্যটন পুলিশের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেন।