জাহাজভাঙা কারখানার দুই শ্রমিকের মৃত্যুতে এবার অবহেলাজনিত মামলা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা নৌঘাট এলাকায় কেআর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানা থেকে দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নিহত শ্রমিক আবদুল খালেকের ভাই মো. মানিক প্রামাণিক বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
নিহত দুই শ্রমিক জাহাজভাঙা কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন গত রোববার তাঁরা সাগরে টহল দিতে যান। গতকাল সোমবার সকালে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, সাগরে ডাকাতের হামলায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কিন্তু শ্রমিকদের স্বজনদের দাবি, কারখানার নোঙর করা জাহাজ ভাটার টানে সরে গেলে সেটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাঁদের মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বাদী দাবি করেছেন, নোঙর করা জাহাজের চালকের অবহেলাজনিত কারণে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার গভীর রাতে ওই জাহাজভাঙা কারখানায় উপকূল থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে সাগরের দিকে প্রহরীর কাজ করছিলেন বাদী মানিক প্রামাণিকের ভাই আবদুল খালেকসহ চারজন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কেআর শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের নোঙর করা একটি জাহাজ ভাটার কারণে পেছনের দিকে হেলে পড়ে নিরাপত্তাকর্মীদের বহনকারী লাইফবোটকে সজোরে আঘাত করে। এতে ওই লাইফবোটে থাকা রুবেল এবং আশরাফুল নামের দুজন পানিতে পড়ে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারলেও আবদুল খালেক ও ছাইফুল ইসলাম মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কর্ণধার তসলিম উদ্দিন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ডাকাত দলের হামলায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার কারখানায় দেড় মাস ধরে কোনো জাহাজ ভাঙা হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি জাহাজ এসেছে, তবে সেটি ভাঙার অনুমতি এখন পর্যন্ত মেলেনি। যার কারণে কোনো কাজ চলমান নেই। এটি জাহাজ-সংক্রান্ত কোনো দুর্ঘটনা নয়।’
তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, জাহাজ বিচিং করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা তদন্ত করছেন। তদন্তের পর জানা যাবে, ডাকাতের হামলা নাকি দুর্ঘটনায় শ্রমিকেরা মারা গেছেন।