বজ্রপাতে ঝিনাইদহে দুজনের মৃত্যু, মেহেরপুরে মারা গেছে ৪টি গরু

বজ্রপাতপ্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বজ্রপাতে মাঠে থাকা চারটি গরু মারা গেছে। আহত হয়েছেন দুজন। সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহে বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ধানকাটা শ্রমিক আসাদুল ইসলাম (৪৫) ও গৃহিণী আন্না খাতুন (৪৮)। আসাদুল ইসলাম কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে ধান কাটার কাজে এসেছিলেন। আন্না খাতুন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দামুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঝড়–বৃষ্টির সময় তিনি আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তাঁদের মৃত্যু হয়।

মায়াধরপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। তখন মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন কৃষকেরা। এ সময় বজ্রপাতে দুই শ্রমিক আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আসাদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শ্রমিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে আসাদুল ইসলাম নামের এক কৃষিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। এ ছাড়া সদর উপজেলার ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর, দোগাছি গ্রামে বজ্রপাতে আরও তিন নারী আহত হয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারিহা তাহসিন বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে বজ্রপাতে আহত আরও চারজন চিকিৎসাধীন। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর মোল্লা জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঝড়–বৃষ্টির মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে শৈলকুপার এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন আহত হয়েছেন। বজ্রপাতে এক কৃষকের চারটি গরু মারা গেছে। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ডোবাপাড়া এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম (৭০) ও ভরাট দুর্লভপুর গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে খাদিজা খাতুন (১৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে রবিউল ইসলাম কসবা গ্রামের চামড়ুখালী মাঠে গরু চরাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড়–বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর চারটি গরু মারা যায়। অন্যদিকে একই সময়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আহত হয় খাদিজা খাতুন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা তাসমেরী খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁরা এখন আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে সরকারি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘বজ্রপাতের ঘটনায় কসবা ও ভরাট দুর্লভপুর গ্রামে দুজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এ ছাড়া চারটি গরুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’