অভিযুক্ত শফিকুল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার টাওরা গ্রামের মৃত রহিম মিয়ার ছেলে। তিনি ওই এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রত্না আক্তার এক কন্যাসন্তানের জননী। স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়েছে। তিনি নরসিংদীর পলাশের ডাঙ্গা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে। তাঁর বাঁ হাত, পিঠ, কোমরসহ শরীরের ১২ থেকে ১৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজের মেয়েকে নিয়ে রত্না উপজেলার জয়নগর গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। চার মাস আগে অভিযুক্ত শফিকুলের স্বজনেরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে রত্নার বাড়িতে আসেন। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন রত্নার পরিবারের সদস্যরা। এরপরও শফিকুল বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে রত্নাকে একা পেলে উত্ত্যক্ত করতেন এবং বিয়ের জন্য জোরাজুরি করতেন। কয়েক দফা প্রত্যাখ্যাত হয়ে শফিকুল রত্নাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রত্নাদের বাড়ির পেছন দিক দিয়ে ঘরে ঢোকেন শফিকুল। এ সময় ঘুমন্ত রত্নার শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন তিনি। রত্নার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলে শফিকুল পালিয়ে যান। রত্নাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই নারীর বাঁ হাত, পিঠ, কোমরসহ শরীরের ১২ থেকে ১৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীর শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় অভিযুক্ত শফিকুলকে আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অ্যাসিড নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন