উপজেলা শহরের পশ্চিমে মাহমুদপুর, হাবিবপুর, সারাঙ্গপুর, প্রস্তমপুর, জোতজয়রাম, চকহরিদাসপুর, চকবসন্ত, নলকুড়া, মোন্নাপাড়া, দয়ারপাড়, ভেলারপাড়, দক্ষিণে ভবানীপুর, মুকুন্দপুর, কেশবপুর, কাটলাসহ ১৫টি গ্রামে চাষ হচ্ছে হাইব্রিড জাতের বেগুন। এসব এলাকার চাষিরা বলছেন, লাভের আশায় অধিকাংশ খেতে এবার ঢোপা সাহেব (বারি-৬) জাতের বেগুন আবাদ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তারাপুরী (বেগুনি গোল), বারি-৭ (বেগুনি লম্বা) ও বারি-১ (বেগুনি মোটা) জাতের বেগুনও আবাদ হচ্ছে। তবে ঢোপা সাহেব জাতের বেগুনখেতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা এবং ঢলে পড়া (ব্যাকটেরিয়াল উইলটিং) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। খেতে কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

পৌরসভার সারাঙ্গপুর গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, চলতি বছর ২০ শতক জমিতে বেগুন আবাদ করতে এবার সেচসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর এই জমিতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। কিন্তু এ বছর জমিতে পোকার আক্রমণ বেশি হওয়ায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি হবে। গত বছর প্রতি সপ্তাহে খেত থেকে ১৪–১৫ মণ বেগুন তুলেছেন।

চাষিরা বলেন, মাঠে পোকার আক্রমণ দেখা বা পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠে তেমন আসেন না বললেই চলে। সাধারণত কৃষকেরা দোকানদারদের পরামর্শেই সার-কীটনাশক কেনেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলা কৃষি দপ্তরের ১৩ জন উপসহকারী নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করেন। একই জমিতে বারবার একই ফসল আবাদ করলে ফসলের উৎপাদন কম ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হতে পারে। এ ছাড়া অনেক কৃষক জমিতে পোকায় আক্রান্ত গাছ জমি থেকে তুলে মাটিতে পুঁতে না ফেলে জমির আলে রেখে দেন।