বগুড়ার ফতেহ আলী সেতু
ঝুঁকিপূর্ণ, তবু চলে যানবাহন
করতোয়া নদী পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিই ভরসা পূর্ব বগুড়ার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের। প্রতিদিন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
বগুড়া শহরে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত ফতেহ আলী সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অযোগ্য ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সেই সঙ্গে দুই পাশে সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করে দেয় সওজ। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে রিকশা, ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করেছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
সওজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরে যেতে করতোয়া নদী পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটিই ভরসা পূর্ব বগুড়ার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের। প্রতিদিন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। তবে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল চার বছর ধরে বন্ধ। সেতুটির ওপর দিয়ে বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার মানুষ চলাচল করে।
চাষিবাজারের ফেলুরাম মৎস্য আড়তের মালিক রঞ্জন কুমার দাস বলেন, কয়েক বছর ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘপথ ঘুরে মাছের গাড়ি বাজারে আসতে প্রায়ই যানজটে আটকা পড়ে। সেই সঙ্গে ট্রাকভাড়াও গুনতে হয় দ্বিগুণ।
সওজ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১৯৬২ সালে করতোয়া নদীর ওপর ৬১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের ফতেহ আলী সেতু নির্মাণ করা হয়। নদীর পারে ফতেহ আলীর মাজার থাকায় সেতুটি এ নামেই নামকরণ হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই সেতুতে বোমা মেরে ক্ষতি করে। স্বাধীনতার পর সেতুটি সংস্কার করা হয়।
প্রকৌশলীরা বলছেন, ২০১৮ সালে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সেতুটির পাটাতন ও গার্ডারের কিছু অংশ সংস্কারও করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
সরেজমিনে সেতুর দুই পাশে ৩ ফুট উঁচু সিমেন্টের একাধিক খুঁটি পোঁতা দেখা যায়। এতে ভারী কোনো যান সেতুতে উঠতে না পারলেও রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকের মতো যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান বলেন, পূর্ব বগুড়া হিসেবে পরিচিত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলা বাসিকে নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। ফতেহ আলী সেতুতে কয়েক বছর ধরে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মধুবন সিনেপ্লেক্সের অবস্থানও করতোয়া নদীর পূর্ব পারে। এই সেতু পার হয়ে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে যেতে হয়। সিনেপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এম ইউনুস রুবেল বলেন, ফতেহ আলী সেতুতে গাড়ি পারাপার নিষিদ্ধ থাকায় দূরদূরান্তের মানুষ গাড়ি নিয়ে সরাসরি সিনেপ্লেক্সে আসতে পারেন না।
সওজ সূত্রে জানা যায়, সেতু পুনর্নির্মাণের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৬৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। সেতুটির চওড়া হবে প্রায় ৪০ ফুট।
সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ৩১ জুলাই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুটি পুনর্নির্মাণের নকশা ও অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। চলতি অর্থবছর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।