শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর মর্যাদা পাবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ সোমবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপ দিতে শিগগিরই উন্নয়নকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ সোমবার স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, আগামী জুলাই মাসে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রমীলা বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে এটিকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে উন্নীতকরণ করা হবে।

আজ বেলা দেড়টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আসেন। পরিদর্শন শেষে আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, একসময়ের আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাড লাইট ও ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো না। গ্যালারিতে যে বসার আসন, সেগুলো জরাজীর্ণ। আন্তর্জাতিক ভেন্যুর অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে মাঠ নতুন করে তৈরি, ড্রেনেজব্যবস্থার আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে সামগ্রিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও যেসব সুযোগ–সুবিধার প্রয়োজন, তা সম্পন্ন করা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মানদণ্ড অনুসরণ করে, তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করে এ স্টেডিয়ামে যা যা থাকা দরকার, সেই আদলে আধুনিকায়ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরও বলেন, ‘রাতারাতি এই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, একটু সময় লাগবে। তবে খুব দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা দ্রুততম সময়ে পূরণ করতে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিগত সময়ে কী কারণে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে জরাজীর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি।’

বগুড়ায় আলাদা কোনো স্টেডিয়াম না থাকায় এটি দেশের মধ্যে ব্যতিক্রম উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের ৬৪ জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্টেডিয়ামকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনা হবে।’
এ সময় বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম (বাদশা), জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ বিসিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বগুড়া জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন  ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডের পর এখানে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ২০২৩ সালে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বিসিবির ক্রিকেট ভেন্যু বাতিল করে বিসিবি। ২০২৩ সালের ২ মার্চ বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্বে স্টেডিয়ামের মূল মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তরের জন্য চিঠি দেয় বিসিবি। এরপর ওই দিনই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে কর্মরত বিসিবির ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া স্টেডিয়ামে থাকা রোলার, পিচ কাভারসহ মাঠ ও খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম এবং ড্রেসিংরুমের আসবাব ঢাকায় নিয়ে যায় বিসিবি। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বিসিবি পরে জনবলসহ মালামাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় জনবল ও যাবতীয় সরঞ্জাম। তবে মাঠ সংস্কারে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।