সাগরে এক জালে ধরা পড়ল এত্তগুলো লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

ট্রলারের জালে ধরা পড়া ১ হাজার ১০০টি লাল কোরালের ওজন মেপে প্রায় ১২০ মণ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার খায়ুকখালী ঘাটেছবি: প্রথম আলো

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার এক ব্যক্তির জালে ধরা পড়েছে ১ হাজার ১০০টি লাল কোরাল মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন চার থেকে ছয় কেজি। গভীর রাতে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। তাতে মহাখুশি ট্রলারের মালিক ও জেলেরা।

ট্রলারটি গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুকখালী ঘাটে পৌঁছালে ক্রেতাদের মধ্যে লাল কোরাল কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। গতকাল বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলে লাল কোরালগুলো ধরেন ট্রলারের ১৫ জেলে।

ট্রলারের মালিক টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজান বলেন, ট্রলারের জালে ধরা পড়া ১ হাজার ১০০টি লাল কোরালের ওজন মেপে প্রায় ১২০ মণ পাওয়া গেছে। প্রথমে সবগুলো মাছের দাম ৪৫ লাখ টাকা হাঁকা হলেও বিক্রি হয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। তাতে প্রতি মণ মাছের দাম পড়েছে ২৬ হাজার টাকা, কেজিতে দাম পড়েছে ৬৫০ টাকা।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়ার একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছিল ৬৮৭টি লাল কোরাল। বিক্রি হয়েছিল ১০ লাখ টাকায়।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় মঙ্গলবার জাল ফেলে লাল কোরালগুলো ধরেন জেলেরা
ছবি: প্রথম আলো

ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁরা টেকনাফ সাগর উপকূলে জাল ফেলে কোনো মাছ পাচ্ছিলেন না। সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। অনেক সময় ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। গতকাল বিকেলে তাঁদের ট্রলারটি ঝুঁকি নিয়ে সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলে। ঘণ্টাখানেক পর জেলেরা জালে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল দেখতে পান। মুঠোফোনে বিষয়টি ট্রলারের মালিককে জানান।

ট্রলারের এক জেলে সলিম উল্লাহ বলেন, রাত আটটার দিকে ট্রলার নিয়ে তাঁরা টেকনাফের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা টেকনাফ পৌরসভার খায়ুকখালীর ঘাটে পৌঁছান।

আরও পড়ুন

ঘাটে প্রতি মণ কোরাল ২৬ হাজার টাকা দামে কিনে নেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ। তিনি বলেন, মাছগুলো ওজন মেপে ১২০ মণ পাওয়া গেছে। মাছের বিপরীতে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই লাল কোরাল প্রতি কেজি ৭০০ টাকায় অনায়াসে বিক্রি করা যাবে। তবে বেশির ভাগ লাল কোরাল তিনি ট্রাকবোঝাই করে ঢাকায় পাঠাবেন।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু মাছ। হাটবাজারে একসময় প্রচুর পাওয়া যেত। এখন কমে যাচ্ছে। লাল কোরাল সর্বোচ্চ ৯ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।