ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকটকে মন্তব্য করা নিয়ে বিরোধ, সালিস শেষ হতেই টেঁটা–বল্লম নিয়ে শুরু সংঘর্ষ
ভিডিও–নির্ভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের ভিডিওতে মন্তব্য করা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত আশুগঞ্জ বাজারে আবিরপাড়া ও নাকরপাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের আবিরপাড়া গোষ্ঠীর মো. সিয়াম (১৭) ও ফাহাদ হোসেনের (১৮) সঙ্গে একই গ্রামের নাকরপাড়া গোষ্ঠীর মো. আরিফ (১৬) ও আবু বক্করের (১৭) বন্ধুত্ব ছিল। গত বৃহস্পতিবার টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য করা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
আবিরপাড়া গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যবসায়ী এমরান মোল্লা, মহিউদ্দিন মোল্লা ও নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে নাকরপাড়া গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতি ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলামসহ কয়েকজন। দুই কিশোরের বিরোধের জেরে গতকাল শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আজ শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আশুগঞ্জ বাজারে জহিরুল ইসলামের ধান–চালের আড়তে স্থানীয় মাতবর ও সরদারদের উপস্থিতিতে সালিস হয়। সালিস বৈঠকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও আশুগঞ্জ থানা–পুলিশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সালিস বৈঠক চলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সালিসে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বৈঠক শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, এককাইট্টা, ছুরি, দা, রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
টিকটকের ভিডিও নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধান হয়। পরে দুই কিশোর একে অপরকে মারধর করে। তখন আমরা মিলমালিকেরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। ঝগড়ার কথা শুনে আমরা এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। কিন্তু বর্তমানে বিএনপির একটি পক্ষ এটিকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে।
আবিরপাড়া গোষ্ঠীর এমরান মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিকটকের ভিডিও নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধান হয়। পরে দুই কিশোর একে অপরকে মারধর করে। তখন আমরা মিলমালিকেরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। ঝগড়ার কথা শুনে আমরা এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। কিন্তু বর্তমানে বিএনপির একটি পক্ষ এটিকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতি ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা নিয়ে অনেক সমস্যা হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমার মাথা এখন অনেক গরম। আমি এখন কথা বলতে পারব না। পরে কথা বলব। এখন ফোন রাখি।’
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ প্রথম আলোকে বলেন, টিকটকের ভিডিও নিয়ে দুই কিশোরের বিরোধ আবিরপাড়া ও নাকরপাড়ার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সালিসে বিষয়টি সমাধান করা হয়। সালিস শেষের দিকে আবিরপাড়া গোষ্ঠীর এক কিশোর ক্ষুর দিয়ে নাকরপাড়া গোষ্ঠীর এক কিশোরের শরীরে পোচ দেয়। এর জেরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা তিনটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।