তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় গতকাল রোববার তাঁদের যোগদানপত্র গ্রহণ করেনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেখইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়াদ মিয়া তালুকদার।

ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ দুটি উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ১৫৪ জন নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছে ৩ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ডাকযোগে পাঠানো হয়।

চাকরিতে নিয়োগপত্র-সংক্রান্ত কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেখইজোড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মাহবুবুল ইসলাম ও মাহমুদুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাঁদের বাবার নাম সাইফুল ইসলাম ও মায়ের নাম মাজেদা খানম। বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয়েছে সাতপাই, হাউজ নম্বর ৬৫৯, নেত্রকোনা। প্রকৃতপক্ষে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে।

বেখইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়াদ মিয়া তালুকদার বলেন, ‘এই দুজন আমাদের গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন। তাঁরা আমাদের গ্রামের বাসিন্দা নন। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ওই দুজন চাকরি পাওয়ায় তাঁদের নিয়োগপত্র বাতিল করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

উপজেলার সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝিনুক শঙ্খ বলেন, ‘প্রতিবছরই আমাদের উপজেলায় ভুয়া ঠিকানা দিয়ে অনেকেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান। এতে আমাদের উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ভাই মাহবুবুল ইসলাম এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করার সময় ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে বেখইজোড়া গ্রামে আমার আব্বার নামে চার কাঠা জমি কেনা হয়েছিল। আমরা বেখইজোড়া গ্রামে কখনো বসবাস না করলেও সেখানে আমাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। এ ছাড়া ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পাওয়া মাহবুবুল ও মাহমুদুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুজন যোগদানের জন্য আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার লিখিত অভিযোগ থাকায় নিয়োগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’