ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইব্রাহিম ফারুক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ খান প্রমুখ।

এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার বিকেলে নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সভা করে নৌকার পক্ষে ভোট চান জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন। ওই সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক ওরফে রাসেল প্রকাশ্যে বলেন, ‘যাঁরা নৌকায় ভোট দেবেন, তাঁরাই কেবল ভোটকেন্দ্রে যাবেন।’ ওই সভাস্থলে উপস্থিত পুলিশের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাঁরা নৌকায় ভোট দেবেন, তাঁরাই কেবল ভোটকেন্দ্রে যাবেন
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম মহসীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকাশ্য সভায় নৌকার ভোটার ছাড়া অন্য ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার ঘোষণা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য হুমকি। শুধু ভোটার না, আমাকেও এলাকায় না থাকার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

ছয়হিস্যা তাঁতেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘তাঁরা (নৌকার সমর্থক) বক্তব্য দিয়েই থেমে থাকছেন না; বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছেন ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য। ওই হুমকির পর ওই গ্রামের অন্তত অর্ধশত ভোটার এলাকাছাড়া।’

হারুন অর রশিদ নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘নৌকার ভোটার ছাড়া অন্য ভোটার ভোটকেন্দ্রে গেলে যদি সমস্যা হয়, তাহলে আইন করে দিলেই ভালো হতো যে অন্য কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার রাত থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হবে। কোনো বক্তব্যে কোনো কাজ হবে না, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচনের মতো।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি নাজিরপুর ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আমির হোসেন ব্যাপারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি শপথ নেওয়ার আগেই ১৯ ফেব্রুয়ারি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একই ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান ৩ মার্চ মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান। এ কারণে ওই শূন্য দুটি পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। ২৭ জুলাই উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। মোট ছয়জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে দুজন প্রার্থী লড়ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন