মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে এক লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুস সালামের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল। তখন আবদুস সালাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর পর তাঁকে শরীয়তপুর সদরের চন্দ্রপুর ইউনিয়নে বদলি করা হয়। এরপর তাঁকে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নে বদলি করা হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আবদুস সালাম খান তাঁর সম্পদ বিরবণীতে স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৯ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপান করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪–এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া তিনি ১২ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪–এর ২৭ (১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ২০ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আবদুস সালামের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর গতকাল সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার বাদী আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, আবদুস সালাম অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর তথ্য ও প্রমাণ দুদকের হাতে রয়েছে। দুদকের আইন অনুযায়ী, এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে মামলা করা হয়েছে।

তবে দুদকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সালাম খান। তিনি বলেন, ‘আমার আয়বহির্ভূত কোনো সম্পদ নেই। দুদক অনুসন্ধান করেও তা বের করতে পারেনি। আমার যা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, তা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ আছে।’ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দুদকে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা বলতে পারছি না।’

দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় একজন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শিগগিরই তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সম্পদের বিষয়ে দুদক থেকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, এমন তথ্য তিনি জানেন। তবে মামলা হয়েছে এমন তথ্য তিনি জানেন না। মামলা হয়ে থাকলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন