হামের প্রাদুর্ভাবে বরিশালে টিকাদানকেন্দ্রে ভিড়, সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তি
হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বরিশালে শিশুদের টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড ভিড় ও ভ্যাপসা গরমে টিকাদানকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, হামের টিকার সরবরাহ থাকলেও কেন্দ্রগুলো থেকে জানানো হচ্ছে টিকা নেই। এতে তাঁরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
আজ বুধবার বরিশাল সদর হাসপাতালে টিকাকেন্দ্রে গিয়ে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ছোট শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালের মূল ফটকের একতলা ভবনের একটি কক্ষে এসব টিকা দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে নগরের চৌমাথা থেকে ছেলে ইয়াহিয়াকে হামের টিকা দেওয়ার জন্য এখানে আসেন খলিল হাওলাদার। এসেই শুনতে পান, হামের টিকা শেষ। কিছুটা হতাশ হয়ে বলছিলেন, ‘এটি বাইরে থেকে দিতে হবে।’ পাশে নাতনিকে কোলে নিয়ে বসে থাকা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ছেলেকেও হামের টিকা দেওয়ার জন্য এখানে আনা হয়েছিল। টিকা না পেয়ে ফিরে গেছে।’
পরে ভিড়ের মধ্যে খলিল আবার টিকাদান কক্ষের ভেতরে খোঁজ নিতে থাকেন। ২০ মিনিট পর আবার ভেতর থেকে খবর আসে, হামের টিকা আনা হয়েছে। খলিল এবার স্বস্তি পান এবং ফিরে এসে বলেন, হামের টিকা এসেছে।
নগরের বিএম স্কুল এলাকার গৃহবধূ সাদিয়া আক্তার তাঁর শিশুর হেপাটাইটিস বি, পোলিও ও নিউমোনিয়া—এ তিনটি টিকার চতুর্থ ডোজ প্রয়োগের নির্ধারিত দিন ছিল আজ। কিন্তু এখান থেকে বলা হয়েছে, এই টিকা নেই। তাই তিনটি টিকার চতুর্থ ডোজ পায়নি শিশুটি।
জানতে চাইলে বরিশালের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয়ক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. এজাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এখানে টিকার কোনো সমস্যা নেই। তবে ওটিবি (টাইফয়েড) ও পিসিভি (পোলিও)—এই দুটি টিকার কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে হামের টিকার কোনো ঘাটতি নেই।’
হামের টিকা আছে–নেই, এমন পরিস্থিতি কেন হচ্ছে, এই প্রশ্নে এজাজ হোসেন বলেন, হামের একটি টিকা পাঁচ শিশুকে দিতে হয়। তাই পাঁচ শিশু না এলে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ওই টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য দুপুরের দিকে যখন ভিড় কিছুটা কমে যায়, তখন এমনটি বলা হতে পারে। তবে পাঁচ শিশু হামের টিকার জন্য কেন্দ্রে এলে না বলার কোনো সুযোগ নেই।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বিভাগের শিশুদের টিকার মজুতে কোনো ঘাটতি নেই। ভোলায় কিছুটা ঘাটতি আছে, তবে তা দ্রুত পৌঁছে যাবে।
ভোলার সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মজুতে কিছুটা সংকট ছিল ঠিক। তবে আজ সকালে আমরা টিকা পেয়েছি। এখন যে মজুত আছে, তাতে আগামী চার মাস চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে উল্লেখ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিকার মজুতে আমাদের আপাতত কোনো ঘাটতি নেই। কেন্দ্রে যেসব শিশু টিকা নেওয়ার জন্য আসছে, তাদের টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’