ভোলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ‘মারা যাওয়ার ভান করে’ বাঁচল শিশুসন্তান

ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নে গভীর রাতে প্রবাসীর এক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালেছবি: সংগৃহীত

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর ৮ বছরের ছেলেকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম নাছিমা বেগম, তাঁর আহত ছেলের নাম আবির হোসেন। পুলিশ ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এবং শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী মো. আল-আমীন মিয়ার দুই স্ত্রীর মধ্যে ছোট স্ত্রী ছিলেন নাছিমা। তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শরীফ সর্দারের বাড়ির একটি ঘরে বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় আহত শিশু আবির বারবার স্থানীয় ইউপির প্রয়াত সদস্য মো. জামালউদ্দিনের ছেলে জিহাদের (২৩) নাম উল্লেখ করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করেছে।

শিশু আবিরের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশকে জানায়, দুর্বৃত্তরা রাতে ঘরে ঢুকে ওই নারীকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং শিশুটিকেও আঘাত করে। তার শরীরজুড়ে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই সময় শিশুটি মারা যাওয়ার ভান করলে হামলাকারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। এরপর ভোরের দিকে সে বাইরে এসে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন নাছিমা বেগম। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে নাসিমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে এবং ছেলে আবিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র নছনছ করে দুর্বৃত্তরা। ভোরের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবির ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ সময় সে জানায়, জিহাদ নামের একজন তার মা ও তাকে কুপিয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।

প্রতিবেশী নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘ছেলেটি গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের কাছে এসে ঘটনার কথা জানায়। পরে আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়িঘর সংস্কারের জন্য নাছিমা বেগম একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঘটনার পর সেই টাকা ঘরে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ওই টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। আহত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।