সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার বাঘিনী ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে

ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীর সামনের বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারেছবি : বনবিভাগের সৌজন্যে

সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার বাঘিনী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা বাঘিনীটি এখন নিয়মিত খাবার গ্রহণ শুরু করেছে।

বন বিভাগ বলছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটিকে আবার সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

গত রোববার সন্ধ্যার পর বাঘিনীটিকে খুলনার রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়। উদ্ধারের পর প্রথম দিকে প্রাণীটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় কোনো খাবার পায়নি বলে ধারণা করছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বাঘিনীটি কিছুই মুখে দেয়নি। পরে বিকেলে আধা কেজির মতো খাবার খায়।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে আজ বুধবার দুপুরে জানানো হয়, চিকিৎসা শুরুর পর বাঘিনীটি পানি পান ও খাদ্য গ্রহণ শুরু করেছে। ধীরে ধীরে তার ভেতরে স্বাভাবিক বন্য আচরণও ফিরে আসছে। এখন চার পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারছে। মানুষ দেখলে হুংকার দিচ্ছে এবং থাবা মারার ভঙ্গি করছে।

বাঘিনীটি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গতকাল রাতে খুলনায় আসে। আজ সকালে তাঁরা বাঘিনীটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা–সংক্রান্ত পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীর সামনের বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চলনভঙ্গি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, পায়ের কোনো হাড় ভাঙেনি। বর্তমানে ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় মানুষের সমাগম হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরের পর তারা খবর পায়, সুন্দরবনে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে একটি বাঘ আটকে রয়েছে। রোববার দুপুরে ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে প্রাণীটিকে অচেতন করে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী, যার ওজন প্রায় ১০০ কেজি।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, কয়েক দিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীটির মধ্যে একধরনের মানসিক ট্রমা তৈরি হয়েছিল। সেটি ধীরে ধীরে কাটছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে রেসকিউ সেন্টারের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

নির্মল কুমার পাল জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বাঘিনীটির উন্নতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দ্রুতই তাকে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন