পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা পাটুরিয়াগামী সেলফি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘিওরের তরা এলাকায় পেছন থেকে একটি চলন্ত মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জুয়েল মিয়া (২৪) এবং তাঁর বন্ধু আশিকুর রহমান (২৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী অপর বন্ধু হাসিবুর রহমান আহত হন। তাঁদের বাড়ি আশপাশের এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে এবং সেলফি পরিবহনের বাসটি জব্দ করে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, সেলফি পরিবহনের প্রতি এলাকাবাসীর ক্ষোভ রয়েছে। ওই পরিবহনের কর্তৃপক্ষকে সাময়িক বাস চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী তরা এলাকায় সেলফি পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে উত্তেজিত জনতা সেখান থেকে পাশের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সেলফি পরিবহনের অপর একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আধঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এরপর মহাসড়কের এক লেন দিয়ে উভয় দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নিহত আশিকুরের বাবা মহিদুর রহমান বাদী হয়ে বাসচালককে আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগে সেলফি পরিবহন কর্তৃপক্ষও থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ সারা দিন এই পরিবহনের কোনো বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত এক বছরে যতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার অধিকাংশই একই পরিবহনের বাস করেছে। বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে সেলফি পরিবহনের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁদের পরিবহনের চালকদের প্রত্যেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত গতির মধ্যে চালকদের গাড়ি চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু যে সেলফি পরিবহনের কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটছে তা নয়, অন্য যানের কারণেও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, সেলফি পরিবহনের প্রতি এলাকাবাসীর ক্ষোভ রয়েছে। ওই পরিবহনের কর্তৃপক্ষকে সাময়িক বাস চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন